বৃহস্পতিবার ২১ আগস্ট ২০২৫ - ১০:৩১
আল-আকসা স্মরণে: বিশ্ব মসজিদ দিবস – ঐক্য, শান্তি ও মানবতার প্রতীক

মসজিদ কেবল নামাজের স্থান নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কেন্দ্র, যা বোঝাপড়া, সহযোগিতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মসজিদ ইসলামী সমাজে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে। কোনো মসজিদে অবমাননা মুসলমানদের গভীরভাবে ব্যথিত করে। বিশ্ব মসজিদ দিবস আল-আকসা মসজিদে আগুন হামলার স্মরণে পালিত হয় এবং ধর্মীয় স্থান সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে।

১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট, এক চরমপন্থী আল-আকসা মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুসলিমদের প্রাক্তন প্রথম কিবলা হিসেবে আল-আকসার গুরুত্ব বিবেচনা করলে এটি ছিল একটি গভীর আঘাত। প্রায় ১৫০০ বর্গমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস হয় এবং কাঠামোগত ধস ঘটে। মুসলিম দেশগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রেজোলিউশন ২৭১ গ্রহণ করে। আজ বিশ্ব মসজিদ দিবস আল-আকসাকে ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান হিসেবে স্মরণ করায়।

মসজিদ শব্দের অর্থ হলো “সেজদার স্থান”। প্রাথমিক মসজিদগুলো নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মদিনার প্রাঙ্গণ অনুযায়ী নির্মিত হয়। মসজিদকে সাধারণত নামাজ, সামাজিক মিলন এবং শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। ইতিহাস জুড়ে, মসজিদকে পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা মানুষকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিকভাবে গড়ে তোলে।

মসজিদ শুধু আধ্যাত্মিক স্থান নয়; এটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানে বহু মসজিদ ও পবিত্র স্থান রয়েছে, যা তাদের সমমিত ডিজাইন, জ্যামিতিক নকশা এবং উজ্জ্বল রঙের জন্য পরিচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: নাসির আল-মুল্ক মসজিদ, শেখ সফি আল-দিন খানেঘা, শাহ-ই চেরাগ মসজিদ, ইমাম মসজিদ, যাজদ জামে মসজিদ, ভাকিল মসজিদ, তাবরিজ ব্লু মসজিদ, গোহার শাহ মসজিদ, আগা বোযর্গ মসজিদ এবং জামকারান মসজিদ।

মসজিদের স্থাপত্য আঞ্চলিকভাবে ভিন্ন হলেও কিছু মূল বৈশিষ্ট্য সব জায়গায় দেখা যায়:
মিহরাব: মক্কার দিকে দিক নির্দেশক।

মিনবার: খুতবা দেওয়ার স্থান।

মিনারেট: নামাজের ডাক (আযান) দেওয়ার উচ্চ টাওয়ার।

অবলিউশন সুবিধা: ওজু বা শুদ্ধিকরণের জন্য।

মসজিদের দেয়ালে ক্যালিগ্রাফি, জ্যামিতিক নকশা ও ফুলের মোটিফ শোভিত করা হয়। প্রতীকী চিত্র এড়িয়ে, কোরানের আয়াত এবং বিমূর্ত নকশার মাধ্যমে সৌন্দর্য প্রকাশ করা হয়।

সাধারণভাবে মসজিদে বড় প্রার্থনা হল, প্রাকৃতিক আলো ও খোলা প্রাঙ্গণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রাঙ্গণ সামাজিক ও আধ্যাত্মিক মিলনের জন্য অতিরিক্ত স্থান প্রদান করে।

মসজিদ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণকে পবিত্র কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। আধুনিক মসজিদগুলো নতুন সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করে, তবে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য অক্ষুণ্ণ রাখা হয়।

বিশ্ব মসজিদ দিবস মসজিদের গুরুত্ব, বিশেষ করে আল-আকসা মসজিদকে স্মরণ করায়। এটি ঐক্য এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। বর্তমান সময়ে মুসলিমদের মধ্যে সংহতির প্রয়োজন আগের চেয়ে অনেক বেশি। শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান—এসব ইসলামের মৌলিক শিক্ষা জীবনে প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োগ করা জরুরি।

মুসলিম উম্মাহকে একত্রিত করা, সাধারণ মূল্যবোধ স্মরণে রেখে একসাথে কাজ করার মাধ্যমে সম্ভব। মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha